সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬ , ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার তুলনা হয় না : মির্জা ফখরুল শিশুর হাতে স্মার্টফোন : আশীর্বাদ না অভিশাপ? হাওরের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি টাঙ্গুয়ার হাওরে উজাড় হচ্ছে হিজল-করচ বাগ সাম্রাজ্যবাদী ও দেশবিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবি “সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন হান্নান মাসউদ” গুপ্ত ছিলাম, বাইরে যাইনি, ভবিষ্যতেও পালাবো না : জামায়াত আমির প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬ জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হলেন যাঁরা বিদ্যুতের দাম বাড়লো দুই বছরে নিঃস্ব হয়ে ফিরেছেন ২১৫ জন তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১৪৮৭ কোটি টাকা মা-বাবার পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত তোফায়েল আহমেদ গণমাধ্যম, পুলিশ ও প্রবাসীদের উদ্যোগে অসহায় সাজু মিয়ার মুখে হাসি হাওরপাড়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস যাত্রী ওঠানো নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১২, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর ১০টি পৌরসভার পানি সরবরাহ লাইনে ত্রুটি, দুর্ভোগে ৬ শতাধিক গ্রাহক স্থানীয় সরকার নির্বাচন : আগস্টের শেষে তফসিল, অক্টোবরে ভোটের চিন্তা হাওরে কৃষকের নিরানন্দ ঈদ তোফায়েল আহমেদ আর নেই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা : এমপি কামরুল
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের বিবৃতি

জাতিসংঘের মানবাধিকার মিশন কোনো এজেন্ডা বাস্তবায়নে হাতিয়ার হবে না

  • আপলোড সময় : ২০-০৭-২০২৫ ০৪:২৯:১২ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২০-০৭-২০২৫ ০৪:২৯:১২ পূর্বাহ্ন
জাতিসংঘের মানবাধিকার মিশন কোনো এজেন্ডা বাস্তবায়নে হাতিয়ার হবে না
সুনামকণ্ঠ ডেস্ক :: ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের অফিস স্থাপনে তিন বছর মেয়াদী চুক্তি সই করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এ খবর প্রকাশের পর পরই দেশজুড়ে তুমুল আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন সংগঠন এ অফিস বন্ধ ও চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়েছে। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তারা। এমন পরিস্থিতিতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় বলছে, ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ের মিশন কোনো সামাজিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হবে না। এ মিশন শুধু গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধ ও প্রতিকার এবং পূর্ববর্তী সরকারের দ্বারা সংঘটিত অপরাধগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিতের দিকেই মনোযোগ দেবে। শনিবার (১৯ জুলাই) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার ও জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় একটি তিন বছরের সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় একটি মিশন পরিচালনা করবে, যার লক্ষ্য হবে মানবাধিকার রক্ষা ও উন্নয়নে সহায়তা প্রদান। বিবৃতিতে বলা হয়, মিশনের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সরকারি সংস্থা ও সিভিল সোসাইটি সংগঠনগুলোর প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা নিশ্চিত করা। এই সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশ যেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাধ্যবাধকতা পূরণে সক্ষম হয়, সেই লক্ষ্যে সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা প্রদান করা হবে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রেক্ষিতে এই উদ্যোগটি সরকারের জবাবদিহিতা ও সংস্কারের প্রতি প্রতিশ্রুতির বহিঃপ্রকাশ বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। বিবৃতিতে অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়েছে, দেশের কিছু মহল জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতাদর্শগত অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ একটি গভীর সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যে আস্থা রাখা সমাজ। অনেক নাগরিকই মত দিয়েছেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে দেশের মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া উচিত। তাই এই মিশন শুধু গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধ ও প্রতিকার এবং পূর্ববর্তী সরকারের দ্বারা সংঘটিত অপরাধগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দিকেই মনোযোগ দেবে। এটি কোনো সামাজিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হবে না, যা দেশের প্রচলিত আইন, সামাজিক রীতি ও সংস্কৃতির বাইরে পড়ে। সরকার আশা করছে, এই মিশন সর্বদা স্বচ্ছতা বজায় রাখবে এবং স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। জাতিসংঘ কর্তৃপক্ষ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তারা বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ধর্মীয় বাস্তবতার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে কাজ করবে। সরকার স্পষ্ট করে জানিয়েছে, দেশের স্বার্থে যদি কখনো এই অংশীদারত্ব অসামঞ্জস্যপূর্ণ মনে হয়, তবে চুক্তি থেকে সরে আসার সার্বভৌম অধিকার বাংলাদেশ সরকারের থাকবে। সরকার আরও বলেছে, যদি পূর্ববর্তী সরকারের আমলে এ ধরনের একটি আন্তর্জাতিক অফিস থাকত, যেখানে বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- ও গণহত্যা হয়েছিল। তাহলে অনেক অপরাধ তদন্ত ও প্রমাণিত করা যেত এবং বিচার নিশ্চিত হতো। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মানবাধিকার রক্ষায় বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার কেবল মতাদর্শ নয়, বরং ন্যায়ের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। এই অংশীদারত্বকে সরকার একটি সুযোগ হিসেবে দেখছে - সংস্থাগুলোর দক্ষতা বৃদ্ধির এবং নাগরিকদের অধিকতর সুরক্ষা প্রদানের, যা হবে দেশের নিজস্ব আইন, মূল্যবোধ ও জনগণের কাছে জবাবদিহিতার ভিত্তিতে পরিচালিত।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স